:
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পূর্ব শত্রুতার জের ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পৃথক স্থানে দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ এড়াতে উভয় স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সকাল থেকে রাত দশটা পর্যন্ত উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ গ্রামে ও তুজারপুর ইউনিয়নের সরইবাড়ি গ্রামে দফায় দফায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার) বাবর আলী ও সাবেক ইউপি সদস্য আকরামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর আগেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকটি মামলাও রয়েছে। ঈদের দিন রাতে আকরাম আলী পক্ষের মাজহারুল ইসলাম নামের একজনকে বাবর আলী পক্ষের লোকজন মারধর করে। এর জের ধরে ঈদের পরদিন মঙ্গলবার বিকালে আকরাম ও বাবর আলী সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের কয়েক শত সমর্থক ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় যোগ দেয়। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন। এ সময় মনসুরাবাদ বাজারের ১০/১৫টি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ১৫ জনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের সরইবাড়ি গ্রামের কবির খাঁ ও হাবি তালুকদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ঈদের দিন রাতে কবির খাঁর এক আত্মীয় বাড়ি যাওয়ার পথে হাবি তালুকদারের লোকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এর জের ধরে ঈদের পরদিন মঙ্গলবার সকালে উভয় গ্রুপের লোকজন ঘোষণা দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সকাল থেকে শুরু সংঘর্ষ দফায় দফায় রাত দশটা পর্যন্ত চলতে থাকে। এসময় উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হন এবং দুই পক্ষের ৬টি বাড়ি-ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত ১০ জনকে ভাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকিরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছে।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পৃথকস্থানে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, উভয় স্থানেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো পক্ষই এখনো পর্যন্ত থানায় অভিযোগ দায়ের করেননি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।